বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি ওইদিন রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
এরপর প্রার্থীর সম্মতি এবং প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর নাম জানা যাবে। একই বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীর সম্মতি ও স্বাক্ষর নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষরসহ মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে।
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তবে বুধবার পর্যন্ত দলীয়ভাবে তাঁর প্রার্থিতা নিশ্চিত করা হয়নি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে। তিনিও বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
একাধিক প্রার্থী থাকায় প্রায় ৩৫ বছর পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটির প্রয়োজন হচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে যার নাম ঘোষণা করবে, কার্যত তিনিই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে যাচ্ছেন বলে ধরে নেওয়া হবে।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের এক নেতা জানিয়েছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে নির্বাচন নিশ্চিত করতেই অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এর ফলে রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয়। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাহাবুদ্দিন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বঙ্গভবন ছাড়েন।
পদত্যাগের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
You cannot copy content of this page