যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের মূল লক্ষ্য নিয়ে এমন মন্তব্য করেছেন আটলান্টিক কাউন্সিলের বৈশ্বিক চীনবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক ওয়েন-তি সুং। তার মতে, ট্রাম্প একটি সমঝোতা চান, আর শি জিনপিং চান এমন একটি দৃশ্যমান সাফল্য, যা চীনের স্বার্থকে প্রতিফলিত করবে।
সুং বলেন, ‘ট্রাম্প চান একটি চুক্তি, আর শি জিনপিং চান একটি জয়।’ তার মতে, আলোচনায় এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এক পক্ষের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত চুক্তি পেতে অন্য পক্ষকে ট্রাম্প কতটা এবং কত বড় ছাড় দিতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে শি জিনপিংকে জাঁকজমকপূর্ণ সামরিক আনুষ্ঠানিকতায় স্বাগত জানান ট্রাম্প। অনুষ্ঠানে সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনা, সামরিক মহড়া এবং যুদ্ধবিমানের উড্ডয়ন ছিল। পরে দুই নেতা ওভাল অফিসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন।
শিকে দেওয়া এই বিশেষ অভ্যর্থনার মধ্যেও একটি কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে বলে মনে করেন সুং। তার মতে, সামরিক আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এনে দুই দেশের সম্পর্ককে সহযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির একটি বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও ট্রাম্পের বক্তব্যকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সুং। তার মতে, ট্রাম্প এআইকে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি ও শান্তির ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় এই মুহূর্তে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেয় না।
সুং বলেন, ‘ট্রাম্প যখন এআই নিয়ে কথা বলেন, তখন তিনি বিষয়টিকে খুব ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায়, আগামী কয়েক দশক, এমনকি প্রজন্মের পর প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও শান্তির ভিত্তি হবে এআই।’
তার মতে, ট্রাম্পের এমন বক্তব্য থেকে বোঝা যায় না যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি ও এআই প্রতিযোগিতায় তিনি এই মুহূর্তে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে এআই-সংক্রান্ত ঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এআই-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা দ্রুত জানানোর জন্য চীনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি ব্যবস্থা বা যোগাযোগের পথ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
তবে বাণিজ্য, এআই, তাইওয়ান ও ইরানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। ফলে বৈঠকের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পাশাপাশি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে—সমঝোতা অর্জনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত এবং চীন সেই সমঝোতাকে কীভাবে নিজেদের সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করবে।
You cannot copy content of this page