হঠাৎ এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে বিপাকে পড়েছেন ঝালকাঠির সাধারণ ক্রেতারা। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে এখন গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস কিনতে খরচ হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বাড়তি এই ব্যয় সামলাতে না পেরে অনেকেই ইলেকট্রিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির বাজারে ১২ কেজির ওমেরা গ্যাসের সিলিন্ডার আগে ১ হাজার ৮৭০ থেকে ১ হাজার ৯৭০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০ টাকায়। অন্যদিকে, ১২ কেজির টোটাল গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা। বাজারে ওমেরা, আই গ্যাস, ফ্রেশ, বসুন্ধরা ও বেক্সিমকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক মাস আগেও ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৭৫০ টাকায় পাওয়া যেত। বর্তমানে একই সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার ১০০ টাকা বা কোথাও কোথাও ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। পছন্দের ব্র্যান্ড না পেয়ে অনেক ক্রেতা বাধ্য হয়ে অন্য কোম্পানির সিলিন্ডার কিনছেন। আবার নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস নিতে গিয়ে প্রায় ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে।
সরকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে বাজারে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন। এতে সংসারের রান্নার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
শহরের বাসিন্দা রায়হান ইসলাম বলেন, মাসখানেক আগেও ১ হাজার ৭৫০ টাকায় গ্যাস কিনেছেন তিনি। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন একই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ইলেকট্রিক চুলার দামও দিন দিন বাড়ছে।
দামের পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, বাজারে ১৬ থেকে ১৮টি এলপিজি কোম্পানি থাকলেও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছে মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সব ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে তাঁর বাসার গ্যাস শেষ হয়ে যায়। খালি সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে গেলেও পছন্দের প্রতিষ্ঠানের গ্যাস পাননি। দোকানি তাঁকে গ্যাসসহ নতুন সিলিন্ডার কেনার পরামর্শ দেন। এতে খরচ পড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়তি এই অর্থ দিতে না পেরে গ্যাস না কিনেই ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিরাজুলের মতো অনেক ক্রেতাই বাড়তি দাম ও সরবরাহ সংকটের কারণে বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন। কেউ অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার কিনছেন, আবার কেউ ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহার করছেন। এতে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের ক্রেতা কমছে।
ভোক্তারা দ্রুত এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিকল্প জ্বালানির ওপর মানুষের নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।
You cannot copy content of this page