নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নে ড্রেন নির্মাণকাজে বাধা, চাঁদা দাবি এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় করিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রাজিব সরকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ করিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন করিমপুর এলাকার মান্নান মিয়ার ছেলে সুমন প্রধান (৩৬), তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাজিব সরকার (৩২) এবং আফজু মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২৮)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী সদরের করিমপুর কবরস্থান থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত প্রায় ৪২০ মিটার ড্রেন নির্মাণকাজ চলছিল। আর.আর. এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে শ্রমিকরা কাজ পরিচালনা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর পর থেকেই অভিযুক্তরা নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১ আগস্ট বিকেলে করিমপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় ড্রেন নির্মাণের সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নগদ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. হারেস মিয়া (২৬) ঠিকাদারের পরামর্শে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে নরসিংদী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল মামুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চাঁদাবাজ চক্র এলাকায় সক্রিয় থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। বিশ্বস্ত সূত্র ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাজিব সরকার করিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের ভয়ে অনেকেই আগে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পেতেন না।
You cannot copy content of this page