ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাকর্মীরা। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখতে অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিগামী ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫৭টি মেট্রোস্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য।
তবে মেট্রোস্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এক বিচারক বলেন, ‘মশা মারতে আপনারা হাতুড়ি ব্যবহার করতে পারেন না।’ এ সময় আদালত অধিকাংশ মেট্রোস্টেশন খোলা রাখার নির্দেশ দেন। এরপর স্টেশনগুলোর কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বৈঠকে বসেন দিল্লি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে ককরোচ জনতা পার্টি ও ভারতের বিরোধী দলগুলো।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনুগত হয়ে কাজ করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ অবস্থায় তাঁর অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে দাবি তাদের।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক চলছে। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে নিরাপত্তা ও যাতায়াতব্যবস্থায় নেওয়া বিভিন্ন বিধিনিষেধ সাধারণ মানুষের চলাচলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
You cannot copy content of this page