কুড়িগ্রামে একই দিনে জন্ম নেওয়া তিন যমজ বোন এবারের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। ভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা করলেও একসঙ্গে অধ্যবসায় ও পরিবারের সহযোগিতায় এই সাফল্য অর্জন করেছেন তারা।
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া তিন বোন হলেন তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান। তাবিয়া কুড়িগ্রাম সদরের অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং তাহিয়া ও তাকিয়া কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়। বর্তমানে তাবিয়া বর্ডার গার্ড উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং অপর দুই বোন কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার নাজিরা টেক্সটাইল মোড় এলাকার বাসিন্দা এই তিন বোনের বাবা তারিকুর রহমান তারিক পেশায় আইনজীবী (অতিরিক্ত পিপি) এবং মা শাহিনা আক্তার গৃহিণী। তিন মেয়েকে ঘিরেই তাদের পরিবারের স্বপ্ন।
রোববার ফল প্রকাশের পর বাবা তারিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তানের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি মেয়েদের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং এই অর্জনের পেছনে মায়ের পরিশ্রম ও যত্নের কথা উল্লেখ করেন।
২৬ মার্চ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জন্ম নেওয়া এই তিন বোনের স্বপ্নও এক। বড় হয়ে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চান তারা।
তাহিয়া রহমান জানায়, নিয়মিত পড়াশোনা, নিজের প্রচেষ্টা এবং বাবা-মায়ের সহযোগিতার ফলেই তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতেও আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাদের।
তাবিয়া রহমান বলে, একই স্কুলে পড়ার সুযোগ না হলেও তিন বোন বাসায় একসঙ্গে পড়াশোনা করে। তাদের লক্ষ্য একসঙ্গে চিকিৎসক হওয়া।
মা শাহিনা আক্তার বলেন, তিন মেয়ের ফল নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছিল। তবে তিনজনই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ায় পুরো পরিবার আনন্দিত। তিনি সবার কাছে মেয়েদের জন্য দোয়া কামনা করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার কুড়িগ্রাম জেলায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ৬ হাজার ৬১৭ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৭০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৫৭৫ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে।
You cannot copy content of this page