‘ফাদার অব অল বোমস’ নামে নতুন একটি অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি।
বুধবার (২২ অক্টোবর) ইরানের সংবাদমাধ্যম ইয়াং জার্নালিস্টস ক্লাব মোহেব্বির বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানায়।
মোহেব্বি বলেন, ‘ফাদার অব অল বোমস’ উন্মোচনের প্রস্তুতি চলছে। এটি শত্রুর জন্য নতুন কিছু হবে। তবে অস্ত্রটির বৈশিষ্ট্য, ধ্বংসক্ষমতা কিংবা কবে এটি উন্মোচন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (এমওএবি) বোমা ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। বোমাটি ‘মাদার অব অল বোমস’ নামেও পরিচিত। প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের এই প্রচলিত বিস্ফোরক যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম বৃহৎ বোমা।
২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একটি সুড়ঙ্গে হামলায় প্রথমবারের মতো বোমাটি ব্যবহার করা হয়।
যুদ্ধের পর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বেড়েছে: আইআরজিসি
মোহেব্বির দাবি, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দেড় গুণ বেড়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করেননি।
তিনি আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এগুলোর পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতাও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আইআরজিসির এ মুখপাত্র জানান, ইরান তার প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তন আনছে। দেশটি এখন স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মোহেব্বির ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ছিল মূলত আত্মরক্ষামূলক। কোনো দেশ ইরানে হামলা চালালে তার জবাব দেওয়ার কথা বলা হতো। তবে এখন ইরান শুধু পাল্টা জবাব দেওয়াই নয়, প্রয়োজনে আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালানোর অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, শত্রুকে এমনভাবে আক্রমণ করা হবে, যাতে তারা ইরানের জবাবের তীব্রতা অনুভব করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।
জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা পরে ভেস্তে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি এবং ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি ইরানের সামরিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ‘ফাদার অব অল বোমস’ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় অস্ত্রটির প্রকৃত সক্ষমতা এখনো স্পষ্ট নয়।
You cannot copy content of this page