মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়ানোর বিভিন্ন সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করলেও এখনই এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে অবহিত করেছেন। তবে ট্রাম্পের ধারণা, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হলে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে।
এ কারণে কাতারে চলমান পরোক্ষ আলোচনা আগামী ১৮ আগস্ট নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও তা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির শর্ত ইরান লঙ্ঘন করলে দেশটির নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পরিসরে হামলা অব্যাহত রাখার নীতিতেই আপাতত সন্তুষ্ট রয়েছে ওয়াশিংটন।
এদিকে আলোচনার সম্ভাবনায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, তারা আপাতত এ অঞ্চলে অবস্থানরত শীর্ষ মার্কিন দূতদের সঙ্গে কোনো বৈঠকে বসবে না। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার মতো জটিল বিষয়ে আলোচনার আগে দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্তগুলোর বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা স্পষ্ট করতে হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এতে স্পষ্ট হয়েছে যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোতে এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়েছে। আলোচনার প্রাথমিক রূপরেখায় অর্থনৈতিক প্রণোদনার বিনিময়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ৬০ দিনের আলোচনার সময়ও নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। বর্তমানে সেখানে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।
তবে ইরান দাবি করেছে, কৌশলগত এই জলপথের সার্বভৌমত্ব ইরান ও ওমানের যৌথ অধিকারভুক্ত। ৬০ দিনের আলোচনার সময় শেষ হলে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি থেকে প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে টোল বা ফি আদায় শুরু করা হবে বলেও জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার আওতায় পরিচালিত হবে এবং এ বিষয়ে ইরান ও ওমানের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এই জলপথে ইরানকে কোনো ধরনের টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না। দ্য মাইকেল নোলস শো-তে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি কখনোই তৈরি হতে দেওয়া হবে না, যেখানে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করবে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান এখনো মুখোমুখি। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
You cannot copy content of this page