চিনি কমানোর চেষ্টা করছেন? তাই চায়ের কাপে চিনি বাদ দিয়ে মধু বা গুড় যোগ করছেন? অনেকেই মনে করেন, প্রাকৃতিক হওয়ায় মধু কিংবা গুড় চিনির তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।
চিনির পরিবর্তে মধু বা গুড় বেশি পরিমাণে খেলে কাঙ্ক্ষিত উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস থেকেই যেতে পারে।
মধু প্রাকৃতিক খাবার হলেও এতে মূলত শর্করা থাকে। তাই এটিকে ইচ্ছেমতো খাওয়ার সুযোগ নেই।
মধুতে কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে সেগুলোর পরিমাণ এত বেশি নয় যে, মধুকে সীমাহীনভাবে খাওয়ার উপযোগী করে তুলবে। মধু খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে পারে। ফলে এটিকে চিনির সম্পূর্ণ নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
চিনির পরিবর্তে গুড় খেলেও খুব বড় স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। আখের গুড় কিংবা খেজুরের গুড়—দুটিতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শর্করা ও ক্যালরি রয়েছে।
তাই চিনির বদলে গুড় খেলেই ওজন কমবে বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
চা বা কফিতে নিয়মিত চিনি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে হঠাৎ পুরোপুরি বাদ দেওয়া কঠিন হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে চিনির পরিমাণ কমিয়ে আনা যেতে পারে।
পরবর্তী সময়ে চা-কফিতে চিনি, মধু বা গুড়—কোনোটিই না দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা ভালো। একই সঙ্গে মিষ্টিজাতীয় খাবারের পরিবর্তে গোটা ফল, শাকসবজি ও স্বাস্থ্যকর গোটা শস্য খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
ফলের জুসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়াও ভালো। এতে ফলের প্রাকৃতিক ফাইবার পাওয়া যায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করতে পারে।
চিনি বাদ দিয়ে মধু বা গুড় খাওয়া মানেই যে খাবারটি স্বাস্থ্যকর হয়ে যাবে, তা নয়। মধু ও গুড় দুটিই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
চিনির বিকল্প খোঁজার চেয়ে মিষ্টি স্বাদের প্রতি নির্ভরতা ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস কমানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
You cannot copy content of this page