টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন পেসার হাসান মাহমুদ। রোববার (১১ অক্টোবর) আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের ইনিংসের ৮৩তম ওভারে টানা তিন বলে ইসমত আলম, কাইস আহমদ ও জিয়াউর রহমানকে ফিরিয়ে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে এর আগে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক কাপালি ২০০৩ সালে এবং সোহাগ গাজী ২০১৩ সালে। হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি ৫০তম হ্যাটট্রিক। চলতি বছরে টেস্ট ক্রিকেটে এটিই প্রথম হ্যাটট্রিক।
আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রানে অলআউট হয়। জবাবে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল আফগানিস্তান। দ্বিতীয় দিন শেষে ৪ উইকেটে ২১১ রান সংগ্রহ করেছিল তারা।
তবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র পাল্টে দেয় বাংলাদেশ। এবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ১ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানিস্তান। এর মধ্যেই হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়েন হাসান মাহমুদ।
দিনের তৃতীয় ওভারে আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। ইকরাম আলি খিলকে ৩২ রানে পরিষ্কার বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি।
এর পরের ওভারে টানা দুই বলে দুই উইকেট তুলে নেন হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ইসমত আলমের ১ রানের ইনিংস শেষ করেন তিনি। পরের বলেই সুইংয়ে কাইস আহমদকে শূন্য রানে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন এই পেসার।
হ্যাটট্রিক বলটি নিয়ে তৈরি হয় নাটক। জিয়াউর রহমানের ব্যাটের পাশ দিয়ে বল গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে জমা পড়ে। বাংলাদেশ আবেদন করলেও আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি।
এরপর রিভিউ নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে স্পর্শ না করলেও প্যাডে আঘাত করেছে এবং সেটি অফস্টাম্পে আঘাত করত। ফলে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত আসে জিয়াউর রহমানের বিপক্ষে।
সঙ্গে সঙ্গে হ্যাটট্রিকের আনন্দে মেতে ওঠেন হাসান মাহমুদ ও তাঁর সতীর্থরা। দুর্দান্ত এই কীর্তির মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজের নামও লিখে ফেললেন এই পেসার।
You cannot copy content of this page