সদ্য স্ত্রী ও নয় মাস বয়সী সন্তান হারানো বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে মানবিক বিবেচনায় ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে সাদ্দামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। শুনানি শেষে তিনি জানান, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন।
জানা যায়, জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় কারাবন্দি ছিলেন। গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য তার মৃত স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালী ও নয় মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ দুটি কারাগারের সামনে আনা হয়েছিল।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের সামনে পৌঁছায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সসহ পরিবারের ছয়জন নিকটাত্মীয়কে জেলগেটের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। পাঁচ মিনিট পরই তাদের বের করে দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারাগারের বাইরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের কান্নায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম এবং এরপর থেকে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী স্বর্ণালীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থানে তাদের শিশুপুত্রের মরদেহও পাওয়া যায়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রের ধারণা অনুযায়ী, মানসিক বিষণ্নতার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্যারোলে সাদ্দামকে মুক্তি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়