সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে শেরপুর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহল ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রামচন্দ্রকুড়া, হাতিপাগাড়, বারোমারী, নকশী, হলদীগ্রাম, তাওয়াকুচা, চকিদার টিলা ও কর্ণঝোড়া—এই আটটি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় বিশেষ সতর্কাবস্থা জারি রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় নজরদারির মাত্রা আরও বাড়ানো হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মাইকিং, উঠান বৈঠক এবং সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হচ্ছে। কোনো অপরিচিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি কিংবা অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তাকারী দালাল চক্রের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সীমান্ত এলাকায় একটি সমন্বিত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নকশী সীমান্ত এলাকার এক বাসিন্দা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্তবাসীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখলেই তারা দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করছেন।
আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, সীমান্তে বর্তমানে বিজিবির টহল কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও সন্দেহজনক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির নকশী বিওপির কোম্পানি কমান্ডার মো. আক্তার হোসেন বলেন, “নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে এবং কোনো অবস্থাতেই অবৈধ সীমান্ত পারাপারের সুযোগ দেওয়া হবে না।”
সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
You cannot copy content of this page