দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ও প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষণের লক্ষ্যে উদ্ধার করা সাতটি মূর্তি ও প্রত্নসম্পদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এসব প্রত্নসম্পদ কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান মো. শিহাব হোসেনের কাছে হস্তান্তর করে।
এর আগে গত ৫ জুলাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচুন্ডি মালিপাড়া ও কাহারোল উপজেলার ইছাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রাচীন পাথরের মূর্তি উদ্ধার করে ৪২ বিজিবি। পরে আদালতের নির্দেশে সংরক্ষণের জন্য এসব প্রত্নসম্পদ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে দিনাজপুরের বিরল ও খানসামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা আরও চারটি প্রত্নসম্পদ বিজিবির হেফাজতে ছিল। আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী মঙ্গলবার সব মিলিয়ে সাতটি মূর্তি ও প্রত্নসম্পদ কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল ৩০ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের দুটি এবং ৪৫ কেজি ৩৭০ গ্রাম ওজনের একটি প্রাচীন পাথরের মূর্তি নওগাঁর পাহাড়পুর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া ১১ মে ৯ কেজি ৫৪০ গ্রাম ওজনের আরেকটি প্রাচীন পাথরের মূর্তি কান্তনগর প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরের কাস্টোডিয়ানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, প্রত্নসম্পদ একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এসব প্রাচীন নিদর্শনের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য অপরিসীম।
তিনি বলেন, প্রত্নসম্পদের অবৈধ পাচার ও ধ্বংস রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদারের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া প্রত্নসম্পদ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র, চোরাচালানসহ সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
You cannot copy content of this page