রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় রোববার (৭ জুন) ঘোষণা হতে যাচ্ছে। মাত্র ২০ দিনের মধ্যে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছানোয় এটিকে দেশের বিচার ইতিহাসে অন্যতম দ্রুত বিচার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার ২০ দিনের মধ্যেই মামলা রায় পর্যায়ে পৌঁছায়। অভিযোগ গঠন থেকে রায় পর্যন্ত সময় লাগে মাত্র সাত দিন। পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া—তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক—সবকিছুই সম্পন্ন হয় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে।
গত ১৯ মে পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরদিন তার বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে প্রতিবেশী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই দিনে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয় ৭ জুন।
ফলে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় মাত্র কয়েকটি কার্যদিবসে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে এর আগে আরও কিছু আলোচিত মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয়েছে। যেমন—
আইনজীবীদের মতে, এসব মামলায় দ্রুত বিচার সম্ভব হয়েছে জনমত, সরকারের নজরদারি, তদন্ত সংস্থার তৎপরতা এবং আদালতের ধারাবাহিক শুনানির কারণে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত বিচার একটি ইতিবাচক দিক হলেও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
ঢাকা আইনজীবী মাহিয়া বিনতে মাহাবুব বলেন, দ্রুত বিচার তখনই কার্যকর হয় যখন রাষ্ট্র, তদন্ত সংস্থা ও আদালত সমন্বিতভাবে কাজ করে। তবে এই গতি যেন বিচারিক নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতার ভারসাম্য নষ্ট না করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
এই মামলায় বিচারিক আদালত রায় দিলেও সেটিই চূড়ান্ত নয়। মৃত্যুদণ্ড হলে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হবে এবং আসামিদের আপিলের সুযোগ থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রামিসা হত্যা মামলা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলেও এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নির্ভর করবে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
You cannot copy content of this page