দেশের ইতিহাসে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল ১৯৯১ সালে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে বাংলাদেশ।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করেন। ওই নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট এবং বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পান।
তৎকালীন পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপির ১৪০টি, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি, বাকশালের ৫টি এবং সিপিবির ৫টি আসন ছিল। এ ছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাপ, গণতন্ত্রী পার্টি, এনডিপি, জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে সংসদ সদস্য ছিলেন। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি।
সেই নির্বাচনে ৬০ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বয়কট করে। জামায়াতে ইসলামী ও সিপিবির সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। বিভিন্ন দলের আরও কয়েকজন সদস্যও ভোট দেননি।
স্বতন্ত্র সদস্য নুরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আবদুর রহমান বিশ্বাসকে ভোট দেন। অন্যদিকে গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে ভোট দেন। আওয়ামী লীগের আকতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে উপস্থিত হননি।
এ ছাড়া ন্যাপের আব্দুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাহজাহান সিরাজ এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন।
৩৫ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আবারও সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। তবে সাধারণ নির্বাচনের মতো দেশের সাধারণ ভোটাররা সরাসরি এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে। তার পক্ষে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। বিএনপিও তাদের প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে ক্ষমতাসীন দলটি এখনো তাদের দলীয় প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি।
৩৫০ আসনের জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য বাদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। বিএনপির ২৪৭টি, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি এবং এনসিপির ৮টি আসন রয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রয়েছে তিনটি আসন। এ ছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংসদে স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন আটজন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে। ফলে কোন দলের কতটি আসন রয়েছে, তা নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এগিয়ে থাকবেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী এবং সংসদ সদস্যদের ভোটের ওপর।
নির্বাচিত ব্যক্তি হবেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
You cannot copy content of this page