রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ছয় সংসদ সদস্য। তাঁদের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, বিএনপির মির্জা আব্বাস, মোস্তফা কামাল পাশা, ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
ভোট না দেওয়া ছয় এমপির মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএনপির ওসমান ফারুকও ভোট দিতে আসেননি। খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের। অন্যদিকে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকেও ভোট দিতে দেখা যায়নি।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটদানে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি অর্থহীন ও প্রহসনের।
রুমিন ফারহানা বলেন, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই জানা ছিল। তাই এটিকে নির্বাচন নয়, বরং মনোনয়ন হিসেবে দেখছেন তিনি।
ভোট না দেওয়ার দ্বিতীয় কারণ হিসেবে রুমিন ফারহানা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতির আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা উচিত ছিল।
তাঁর তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিএনপির সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যার বিষয়টি উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে বিএনপি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তিনি ভোট দেওয়াকে ‘প্রহসনের ভোট’ হিসেবে দেখেছেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। একইভাবে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও সংসদ সদস্য পদ থাকবে না।
অন্যদিকে ভোট চলাকালে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হওয়া ঐকমত্য থেকে সরে আসার অভিযোগে দলটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে পরে তিনি ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
You cannot copy content of this page