ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর উদ্যোগ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের উপসাগরীয় প্রতিবেশী ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতার দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। গত জুনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে দেশটি।
যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে গড়ালেও বর্তমানে সংঘাত অনেকটাই স্তিমিত। তবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির স্পষ্ট কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যায়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। তেহরান গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। তবে সর্বশেষ জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসের মধ্যে এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সোমবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের আগে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ব্যারেল।
বুধবার ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস জানায়, হরমুজ প্রণালী ও এর আয় কীভাবে ভাগাভাগি করা হবে, সে বিষয়ে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে। তবে পরে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুই দেশ এখনও চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।
এদিকে সংঘাতের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এখনও যথেষ্ট রয়েছে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে দেশটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
You cannot copy content of this page