ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত দুই সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং আরও প্রায় ১০ জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর ধানমন্ডি জোন আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির এবং দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলাবাগান থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সোবহানবাগ মসজিদ এলাকা ঘুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওই কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশ চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত মাহফুজুর রহমান শিশির জানান, সমাবেশে একাধিক নেতা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সংবাদ সংগ্রহের সুবিধার্থে সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতার বক্তব্য নেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় এক বক্তা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সবার বক্তব্যই নিতে হবে, না হলে চলে যেতে হবে।”
শিশিরের দাবি, তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মী মারধর করেন। তাকে রাস্তায় ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়েছে। তার নাক ও ঠোঁটে আঘাত লেগেছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন বলেন, শিশিরকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনিসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। তার অভিযোগ, জামায়াতের নেতাকর্মীরা দুই দফায় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় এবং একপর্যায়ে শিশিরকে তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করে।
আনন্দবাজারের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জোবায়ের হোসেনও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা অত্যন্ত আগ্রাসী আচরণ করছিল এবং তারা শিশিরকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও হামলা ঠেকাতে তারা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমরা অবগত নই।”
অন্যদিকে, ঘটনাস্থলের ভিডিওতে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান ও জাহিনুর রহমানকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ সম্পর্কে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান খান ঘটনাটিকে “অনাকাঙ্ক্ষিত” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগত কেউ ঢুকে পড়ে এমন অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।”
তবে এ বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় বক্তব্য জানতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের সঙ্গে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
You cannot copy content of this page