দেশের মাদ্রাসাশিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করার ফলে খুব শিগগিরই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসাশিক্ষকদের বেতন বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “জুন মাসের ১৬ তারিখেও অনেক শিক্ষক বেতন পাননি। টাকার অভাবে একজন শিক্ষক তার মায়ের চিকিৎসা করাতে পারছেন না,” যা সংসদে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়।
মন্ত্রণালয় জানায়, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে এমইএমআইএস প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। তবে পূর্ববর্তী সময়ে প্রকল্প থেকে স্বয়ংক্রিয় ইএফটি ব্যবস্থা বাদ দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়মিতভাবে পরিশোধে সমস্যা তৈরি হয়।
বর্তমান সরকার এ সমস্যা সমাধানে প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনেছে। ৯ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ইএফটি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগে দেশের আটটি বিভাগে মাত্র আটটি মাদ্রাসায় পরীক্ষামূলকভাবে ইএফটির মাধ্যমে বেতন দেওয়া হতো। ফলে অধিকাংশ মাদ্রাসায় এখনো ম্যানুয়াল বা প্রচলিত পদ্ধতিতে বেতন পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা মাসের শুরুতে নিয়মিত বিলম্বের কারণ হচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইএফটি ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে মাদ্রাসাশিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পরিশোধ সম্ভব হবে এবং বিদ্যমান জটিলতা স্থায়ীভাবে নিরসন হবে।
You cannot copy content of this page