আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পশ্চিমা এক সূত্র জানিয়েছে, স্মারকের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। তবে দুই পক্ষই শনিবারের মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf রোববার চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।
সূত্র জানায়, সমঝোতা স্মারকের আওতায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান। এছাড়া ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দেশটির আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করা এবং বিভিন্ন ফ্রন্টে হামলা ও উসকানি বন্ধের দাবিও আলোচনায় রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা তিনি বাতিল করছেন, কারণ দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি প্রায় প্রস্তুত।
তবে শুক্রবার ইরানি কর্মকর্তারা যে শর্তগুলোর কথা তুলে ধরেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে তেহরান তার দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি আদায়ের পথে রয়েছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন আপাতত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর ফেব্রুয়ারিতে ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়ের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা ও উত্তেজনা বন্ধের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত রাখা হচ্ছে না। বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন নিশ্চয়তা। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট Mehr News Agency জানিয়েছে, আলোচ্য চুক্তিতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ছাড়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনে একটি বৃহৎ সহায়তা পরিকল্পনা।
মেহর নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।
তবে এসব তথ্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে আলোচনার অগ্রগতি এবং সম্ভাব্য সমঝোতার চূড়ান্ত রূপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
You cannot copy content of this page