পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পাওয়ায় মে মাসের পর এই প্রথম বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একদিনেই ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ার কারণে কয়েকদিন ধরেই তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার কারণে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সৌদি আরব লোহিত সাগরের বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল রপ্তানি করছিল। তবে বর্তমানে সেই পথও ঝুঁকির মুখে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। তবে সেই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়তে থাকলে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। এতে জ্বালানির পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যার প্রভাব খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের দামেও পড়তে পারে। ফলে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসা—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
You cannot copy content of this page