মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় একশ্রেণির মানুষ ও ব্যবসায়ী অবৈধভাবে তেল মজুতের দিকে ঝুঁকছেন। এতে বাসাবাড়ি, গ্যারেজ এমনকি মাটির নিচেও বিপজ্জনকভাবে জ্বালানি সংরক্ষণের প্রবণতা বাড়ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
সরকার বারবার জ্বালানি সংকট না হওয়ার আশ্বাস দিলেও অনেকেই তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠছে।
বিস্ফোরণের শঙ্কা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অনিরাপদভাবে তেল সংরক্ষণ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। পেট্রোল ও অকটেন অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় সামান্য আগুনের স্পর্শেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দেশজুড়ে অভিযান
শুক্রবার (২৭ মার্চ) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়। একই দিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এলপিজি, অকটেন ও পেট্রোল উদ্ধার করে জরিমানা করা হয়।
এর আগে শেরপুরে একটি আবাসিক ভবনে ২৫ হাজার লিটার তেল মজুতের দায়ে জরিমানা করা হয়। এছাড়া মাদারীপুর ও টাঙ্গাইলেও অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধভাবে তেল মজুত শুধু বেআইনি নয়, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবদ্ধ স্থানে তেল সংরক্ষণ করলে সামান্য স্পার্ক থেকেও বড় বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
ভিজিলেন্স টিম গঠন
জ্বালানি বাজারে কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সরকার দেশের প্রতিটি জেলায় ‘ভিজিলেন্স টিম’ গঠন করেছে। এসব টিম অভিযোগ গ্রহণ, নজরদারি ও তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করবে।
তথ্য দিলে পুরস্কার
অবৈধ মজুতদারি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুতের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে তথ্যদাতাকে পুরস্কৃত করা হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সমন্বিত নজরদারি বাড়ালে অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।