যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডারসহ প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নেতানিয়াহুর ভাষণকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আরও ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসপ্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে। বিক্ষোভের আয়োজন করে ফিলিস্তিনপন্থী ইহুদি অধিকার সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাদের অনেকের পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট। সেখানে লেখা ছিল ‘বোমা নয়, মানুষের জন্য অর্থ দাও’, ‘যুদ্ধ নয়’ এবং ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’—এ ধরনের স্লোগান।
বিক্ষোভকারীরা সড়কে বসে যান এবং যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ লাউডস্পিকারে তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কেউ কেউ ফুটপাতে চলে গেলেও একটি দল সড়কে অবস্থান ধরে রাখে। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের ঘিরে ধরে একে একে আটক করে পুলিশের বাসে তুলে নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান বলেন, গাজায় যা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কথা বলা তাদের দায়িত্ব। জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার অধিকার নেতানিয়াহুর নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং গাজায় গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। একই সময়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের বহু প্রতিনিধি বেরিয়ে যান।
নেতানিয়াহু মঞ্চে ওঠার সময় কক্ষের একাংশ থেকে দুয়ো দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বাইরে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানেও ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানান।
You cannot copy content of this page