জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে এ সাক্ষাৎ হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকার পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি ‘কল-অন’ বৈঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যস্ত কর্মসূচির কারণে এ ধরনের বৈঠক শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সেখানে দুই নেতার সাক্ষাৎ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর বাইরে আলাদা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের বরাতে সময়ের আলো জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ করা হয়েছে। ওই কূটনীতিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই আসবে।
এর আগে ২০২৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেছিলেন। তবে এবারের পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, হাইতির প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ও সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।
সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন পরিদর্শনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচের সঙ্গে বৈঠক এবং জলবায়ু কার্যক্রম ও ন্যায়সংগত রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
এদিন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ওয়াল স্ট্রিটের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের আরেকটি বিশেষ দিক হলো, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
You cannot copy content of this page