নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল এলাকায় ৩০০ ফুট সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অটোরিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জটলা তৈরি হচ্ছে। কোথাও সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব যানবাহন রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও সড়কের একটি অংশ দখল করে অস্থায়ী স্ট্যান্ডের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্বাচলের নীলা মার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সংযোগ সড়কের মুখে যাত্রীর অপেক্ষায় দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকছে অটোরিকশা ও সিএনজি। একসঙ্গে অনেক যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের একটি অংশ পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যাত্রী ওঠানামার সময় অনেক অটোরিকশা হঠাৎ থেমে যাচ্ছে কিংবা ঘুরে যাচ্ছে। এতে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির যানবাহনকে আকস্মিকভাবে ব্রেক করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। যাত্রী নেওয়ার জন্য অটোরিকশা ও সিএনজি যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
প্রাইভেটকার চালক ইয়ামিন মিয়া বলেন, পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়কের নীলা মার্কেট এলাকায় অটোরিকশার কারণে গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। এসব অটোরিকশা হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে হয়।
বিআরটিসি শাটল বাসের চালক সুমন মোল্লা বলেন, অটোরিকশা ও সিএনজির কারণে বড় গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। এসব যানবাহন হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। তখন বড় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেক করা কঠিন হয়ে যায়। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। তিনি এসব যানবাহনের বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পথচারী ওয়াসিফ ভূঁইয়া বলেন, অটোরিকশার কারণে ৩০০ ফুট সড়কে হাঁটাচলাতেও ভয় লাগে। কখন কোন অটোরিকশা এসে পথচারীর গায়ে উঠে যায়, সেই আতঙ্ক থাকে। অনেক সময় এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করে। পাশাপাশি অবৈধ স্ট্যান্ডের কারণে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।
সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, শুধু ৩০০ ফুট সড়ক নয়, রূপগঞ্জের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কের পয়েন্টেও অটোরিকশা ও সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নির্দিষ্ট স্টপেজ ও পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কের ওপর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তারা।
তাদের দাবি, পূর্বাচলের মতো পরিকল্পিত এলাকায় সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সড়কের ওপর অস্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে ওঠা বন্ধ করার পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে পূর্বাচল এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী সাব-ইন্সপেক্টর মাহমুদুল হাসান বলেন, পূর্বাচল এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অমান্য করে চলাচলকারী এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং অভিযানও পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান এবং আইনগত কার্যক্রম সব সময় চলমান থাকবে।
You cannot copy content of this page