২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। ঘাট সংকট, বেহাল অ্যাপ্রোচ সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ পল্টুন ও অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এর মধ্যেই কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন তিনটি পল্টুন প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে অলস পড়ে আছে, যা এখন স্থানীয়দের ধান শুকানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরিঘাটের ২, ৫ ও ৬ নম্বর পয়েন্টে নতুন পল্টুন পড়ে রয়েছে, তবে সেখানে কোনো ফেরি ভেড়ানো হয় না। অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় পল্টুনগুলো কার্যত অচল। ফলে স্থানীয়রা সেগুলোর ওপর ধান শুকাচ্ছেন।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মোট সাতটি ঘাট থাকলেও নদীভাঙনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১, ২, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়েই যানবাহন ও যাত্রী পারাপার চলছে। নতুন পল্টুন নির্মাণ করা হলেও সেগুলো এখনো ব্যবহারযোগ্য করা হয়নি।
নদীর পানি কমে যাওয়ায় ফেরিঘাটের সংযোগ সড়কগুলো অত্যন্ত ঢালু ও খাড়া হয়ে পড়েছে। এতে যানবাহন ফেরিতে ওঠা-নামার সময় চরম দুর্ভোগে পড়ছে। প্রায়ই ভারী যানবাহন ওঠানামার সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
পল্টুনে ধান শুকাতে আসা এক নারী বলেন, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে এগুলো পড়ে আছে। কোনো কাজে ব্যবহার না হওয়ায় তারা ধান শুকানোর কাজে ব্যবহার করছেন। বিকেলের দিকে অনেকে এখানে এসে পদ্মা নদীর বাতাস উপভোগও করেন।
রিকশাচালক আনিস বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। নদীভাঙনের কারণে ঘাট পরিবর্তন হলেও আধুনিকায়নের কাজ বাস্তবায়ন হয়নি। নতুন পল্টুন তৈরি হলেও তা ব্যবহার না হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
মাছ ব্যবসায়ী চাঁন্দু মোল্যা বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙন দেখা দেয়। ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তিনি দ্রুত বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, রেলিংবিহীন ও অরক্ষিত পল্টুন, খানা-খন্দে ভরা সংযোগ সড়ক এবং যানবাহনের বিশৃঙ্খল প্রতিযোগিতার কারণে ফেরিঘাটটি এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। নিয়ম না মেনে বাসসহ অন্যান্য যানবাহন যাত্রীসহ সরাসরি ফেরিতে ওঠানামা করছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।
গত ২৫ মার্চ সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায়ও ঘাট ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠে। নিয়ম অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার আগে যানবাহনকে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। যাত্রী নামানো ছাড়াই বাসগুলো ফেরিতে উঠছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, দৌলতদিয়া একটি নদীভাঙনপ্রবণ এলাকা হওয়ায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা সম্ভব নয়। নদীর পানি ওঠানামার সঙ্গে সমন্বয় করে ঘাট পরিচালনা করতে হয়। তিনি দাবি করেন, ঘাটের ঢালে তেমন কোনো সমস্যা নেই এবং পল্টুনগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে সেগুলো নতুনভাবে স্থাপন করা হবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নহে