‘বেদনাদায়ক আঘাত’ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। চলমান সংঘাতের অবসানে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগের মধ্যেই তার এমন বক্তব্য সামনে এলো।
বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ‘শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। এতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির ‘সাহসী যোদ্ধা ও প্রহরীদের’ হাতে মারাত্মক ও বেদনাদায়ক আঘাত পাওয়ার পর শত্রুরা আর আরব সাগরের সীমানা অতিক্রম করার সাহস দেখাচ্ছে না।
মোজতবা খামেনি বলেন, তারা যখনই এ ধরনের ঝুঁকি নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন নিজেদের জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। খুব বেশি সময়ের মধ্যে আরব সাগরও তাদের উপস্থিতি থেকে পুরোপুরি মুক্ত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, আরব উপদ্বীপ থেকে পূর্বে ভারত পর্যন্ত বিস্তৃত আরব সাগর বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সমুদ্রপথ। এই সমুদ্রপথ ইরানের উপকূল এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা চলছে।
সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথকে ঘিরে উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলছে।
সংঘাতের পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ জারি করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান প্রধান সমুদ্রবন্দরের ওপর অবরোধ আরোপ করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
You cannot copy content of this page