চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় চার দিন পর অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেছে পুলিশ। নিহত বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউ মামলা করতে না আসায় সোমবার (১৭ আগস্ট) সীতাকুণ্ড মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি। তাই পুলিশ বাদী হয়ে ইউডি মামলা করেছে। ফরেনসিক রিপোর্ট ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার চার দিন পর সোমবার বিকেল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো। শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) প্রতিনিধিরা বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
তদন্ত দলে ছিলেন ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, পরিবেশ ও নৌ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর, বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী সাংবাদিকদের জানান, জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপজ্জনক মাত্রায় বিষাক্ত গ্যাস থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার প্রান্তিক ও আলিফ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ধারকারী দল জাহাজে থাকা গ্যাসের পরিমাণ ও প্রকৃতি নির্ণয়ের কাজ করবে। এরপর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তদন্তে জাহাজে হাইড্রোজেন সালফাইডসহ অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছিল কি না, নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং কারও গাফিলতি রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
You cannot copy content of this page