বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী মুন স্টার ক্লাবের সামনে একই সময়ে ও একই স্থানে সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপির দুই পক্ষ। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে মূলত দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা। তারা গত ২৭ আগস্ট সমাবেশের অনুমতি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত আবেদন করেন।
অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এবং উপজেলা সদস্যসচিব দাবিদার মোহাম্মদ মোরছালিনের নেতৃত্বাধীন অংশ একই স্থানে একই সময়ে কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলেও ঋণখেলাপির কারণে তার এমপি পদের গেজেট স্থগিত হয়।
আসলাম চৌধুরীর অনুসারী মোহাম্মদ মোরছালিন বলেন, সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর বাইরে বিকল্প কোনো চিন্তার সুযোগ নেই। মুন স্টার ক্লাবের অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথি থাকবেন বলেও জানান তিনি।
তবে মোরছালিনের এই দাবি নাকচ করেছেন কাজী সালাউদ্দিন সমর্থিত কমিটির উপজেলা সদস্যসচিব কাজী মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, মোরছালিন দলের বৈধ সদস্যসচিব নন। গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে কোনো ‘পকেট কমিটি’ করার সুযোগ নেই।
কাজী সালাউদ্দিন বলেন, তারা নিয়ম মেনে আগেই আবেদন করে কর্মসূচির স্থান নির্ধারণ করেছেন। জোর করে কেউ ঝামেলা সৃষ্টি করলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও সংঘাত এড়াতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, সংঘাত এড়াতে দুই পক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমঝোতারও চেষ্টা চলছে।
তবে এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
You cannot copy content of this page