বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে গোলশূন্য ড্র আদায় করেছে আফ্রিকার দেশটি। আক্রমণ, বল দখল ও সুযোগ তৈরিতে স্পেন এগিয়ে থাকলেও কেপ ভার্দের দৃঢ় রক্ষণ ও গোলরক্ষক ভোজিনহার অনবদ্য পারফরম্যান্সে জয়বঞ্চিত থাকতে হয়েছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। প্রথমার্ধে কয়েকবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় তারা। ৩৯তম মিনিটে ফেরান তোরেসের শক্তিশালী শট কেপ ভার্দের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। একই মিনিটে মিকেল ওয়ারজাবালের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ভোজিনহা।
এক মিনিট পর আবারও গোলের সুযোগ পায় স্পেন। তবে এবারও লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন ফেরান তোরেস। বিরতির আগে স্প্যানিশদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ে। ৪৫তম মিনিটে তোরেসের বাম পায়ের শট রুখে দেন ভোজিনহা। এরপর যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে আয়মেরিক লাপোর্তের শক্তিশালী হেডও প্রতিহত করেন তিনি।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মার্কোস লরেন্তের ক্রস থেকে ওয়ারজাবালের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে গেলে হতাশ হতে হয় স্প্যানিশ সমর্থকদের।
বিরতির পরও ম্যাচের চিত্রে তেমন পরিবর্তন আসেনি। বলের নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণে আধিপত্য ধরে রাখে স্পেন। একের পর এক আক্রমণ শানালেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে কেপ ভার্দে মূলত রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণের কৌশলে খেলেছে এবং নিজেদের জাল অক্ষত রাখতে সফল হয়েছে।
ম্যাচের অন্যতম নায়ক ছিলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের ধারাবাহিক আক্রমণের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে তিনি সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। বিপরীতে স্পেনের গোলরক্ষককে পুরো ম্যাচে মাত্র একটি সেভ করতে হয়েছে।
পরিসংখ্যানেও ছিল স্পেনের স্পষ্ট আধিপত্য। বল দখল, কর্নার, প্রত্যাশিত গোল (এক্সজি) এবং তৈরি করা সুযোগ—সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে ছিল তারা। তবুও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি লা রোজারা।
ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দিয়ে মূল্যবান এক পয়েন্ট অর্জন করেছে কেপ ভার্দে। স্পেনের জন্য ফলটি হতাশাজনক হলেও বিশ্বকাপের নবাগত দলটির জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্মরণীয় এক অর্জন হয়ে থাকবে।
You cannot copy content of this page