হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে দেশটির একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও ইরানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ড সমুদ্রপথের নিরাপত্তাকে আবারও হুমকির মুখে ফেলেছে। হামলার কিছুক্ষণ পরই ইরানের সিরিক বন্দরের কাছাকাছি বিস্ফোরণের খবর স্থানীয় সূত্রে প্রকাশিত হয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তার দাবি, জাহাজটিকে লক্ষ্য করে চারটি আত্মঘাতী ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি ভূপাতিত করা সম্ভব হলেও একটি ড্রোন জাহাজে আঘাত হানে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হামলায় জাহাজটির ওপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এ ঘটনার জবাব দেওয়া হবে—আর সেই প্রতিক্রিয়াই এখন বাস্তবে কার্যকর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার পর এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। ওই সমঝোতায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
তবে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান জোরদার হওয়ার পর ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এরই মধ্যে ওমান উপকূলের কাছে ‘এভার লাভলি’ জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
You cannot copy content of this page