যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘জ্যাভলিন’ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত। এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিজেদের বহরে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বড় খবর! ভারত যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে।’
সার্জিও গোর আরও জানান, জ্যাভলিন কেনার মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যৌথ উৎপাদনের বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বর্তমানে ‘রেকর্ড উচ্চ পর্যায়ে’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ‘শাংগ্রি-লা সংলাপে’ মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগগুলো যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।
প্রস্তাবিত এই ক্রয় এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি খাতেও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।
‘জ্যাভলিন’ হলো লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের যৌথভাবে তৈরি একটি বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এটি মূলত সাঁজোয়া যান ও ট্যাঙ্কের মতো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সামরিক বাহিনী বিভিন্ন অভিযানে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতের কাছে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্ভাব্য একটি প্রতিরক্ষা বিক্রয় অনুমোদন করেছিল। ওই প্রস্তাবে সর্বোচ্চ ১০০টি জ্যাভলিন সিস্টেম এবং ২১৬টি এক্সক্যালিবার গাইডেড আর্টিলারি প্রজেক্টাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ভারত এরই মধ্যে নিজেদের এম৭৭৭ হাউইটজারের সঙ্গে এক্সক্যালিবার গোলাবারুদ ব্যবহার করছে।
স্থল, সমুদ্র, আকাশ, মহাকাশ ও সাইবারস্পেসে দুই দেশের আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত গত বছর একটি বড় প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের কাঠামোতে স্বাক্ষর করেছে।
ভারত ইতোমধ্যে মার্কিন তৈরি অ্যাপাচি ও চিনুক হেলিকপ্টার, সি-১৭ ও সি-১৩০জে পরিবহন বিমান, পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান এবং এম৭৭৭ হাউইটজার নিজেদের সামরিক বহরে যুক্ত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কাতার, ফ্রান্স, জর্ডান, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ব্যবস্থা ব্যবহার করে।
আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের পাশাপাশি সিরিয়া ও লিবিয়ার সংঘাতেও এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীও জ্যাভলিন ব্যবহার করেছে। যুদ্ধের শুরুর দিকে জ্যাভলিনের মাধ্যমে রুশ ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংসের দাবি করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি ইউক্রেনীয় প্রতিরোধের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।
You cannot copy content of this page