জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা ও ভোগান্তি কমাতে চালু হওয়া ‘ফুয়েল পাস’ মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার রাজধানীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করে পেট্রল ও অকটেন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর উদ্যোগে চালু হওয়া এই ডিজিটাল ব্যবস্থার লক্ষ্য জ্বালানি বিতরণ প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ করা। শুরুতে রাজধানীর দুটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও শনিবার (১১ এপ্রিল) আরও পাঁচটি স্টেশন যুক্ত হওয়ায় এখন মোট সাতটিতে এই সেবা চালু হয়েছে।
বর্তমানে যেসব ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ সেবা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো হলো—তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জের নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন।
এসব স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকরা এখন শুধুমাত্র ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ ব্যবহার করেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা সারাদেশে সব ধরনের যানবাহনের জন্য চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, নতুন এই ডিজিটাল ব্যবস্থা জ্বালানি বিতরণ পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করবে এবং তাৎক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনবে। অ্যাপটি বিআরটিএ’র কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, ফলে নিবন্ধিত যানবাহনের তথ্য সহজেই যাচাই করা যাবে।
যেসব গ্রাহকের স্মার্টফোন নেই, তারাও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের পর কিউআর কোড ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে ব্যবহার করা যাবে।
এই ব্যবস্থায় ফিলিং স্টেশনের মালিকরা ডিজিটাল এন্ট্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সরবরাহ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে একজন গ্রাহক নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে পারবেন এবং তার বরাদ্দও দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে, অনিয়ম ও অপচয় কমবে এবং সংকটকালীন সময়ে কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।
অ্যাপটি ব্যবহার করতে গ্রাহকদের গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ ডাউনলোড করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য ফোন নম্বর যাচাইকরণের পাশাপাশি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্লুবুক বা স্মার্ট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহারযোগ্য নহে