সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে কার্যকর করার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন কার্যকর হতে পারে, আর বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে দুই বছর ও তিন বছর মেয়াদি দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনায় ছিল। তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে বাস্তবায়ন এবং তৃতীয় বছরে ভাতা কার্যকরের প্রস্তাব ছিল।
তবে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল বেতন দুই ধাপে বাস্তবায়ন করলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (আইবিএএস++)-এ কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই একবারেই সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলও দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে সময় প্রথম বছরে সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছরে সংশোধিত ভাতা কার্যকর করা হয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বাস্তবায়নের বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নবম বেতন কমিশনের সুপারিশের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কিছুটা কম হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটি বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর পৃথক পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করেছে। চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ বা তার কিছু কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও বাজেট নথিতে বেতন-ভাতা খাতে আলাদাভাবে এ বৃদ্ধির উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমানে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এ সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।
এই অতিরিক্ত বরাদ্দের মধ্যে অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ের জন্য ব্যয় করা হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকার বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে।
You cannot copy content of this page