জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। এর অংশ হিসেবে ৪১ বছর বয়সী এই তারকাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ফেডারেশন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এফপিএফ জানায়, রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি তাদের ডিসিপ্লিনারি ইনভেস্টিগেশন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টিকে জরুরি হিসেবে বিবেচনা করছে ফেডারেশন।
গত সপ্তাহে ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে পর্তুগালের কোচ জর্জে জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে কোপেনহেগেনে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রোনালদো অভিযোগ করেন, দলে তাঁর ভূমিকা নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দুবার ভঙ্গ করেছেন কোচ জেসুস। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে কোচের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছিলেন এই তারকা ফুটবলার।
এফপিএফ জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত রোনালদো সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে না।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার ঘটনায় ফেডারেশনের নিয়মে এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়তে পারেন রোনালদো। তবে তাঁর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত শাস্তি কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
শাস্তির আশঙ্কা থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়ের তালিকায় থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি। ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন না জানিয়ে এবং সতীর্থদের ছেড়ে চলে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
গত মঙ্গলবার ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চান রোনালদো। যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
বিতর্কের মধ্যেই শুক্রবার ক্লাব ফুটবলে ফিরেছেন রোনালদো। সৌদি প্রো লিগে আল দিরিয়াহর বিপক্ষে আল নাসরের ৩-০ গোলের জয়ে দলের প্রথম গোলটি করেন তিনি। পেশাদার ক্যারিয়ারে এটি তাঁর ৯৮০তম গোল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরলেও জাতীয় দল ঘিরে বিতর্ক এখনো কাটেনি। ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন শেষ পর্যন্ত কী শাস্তি দেয়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
You cannot copy content of this page