আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
চিফ হুইপ বলেন, সংসদ সদস্যরা আসন নম্বর অনুযায়ী নির্ধারিত বুথে গিয়ে ভোট দেবেন। ব্যালটে প্রার্থীর নাম লিখে ভোট দিতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে স্পিকার, চিফ হুইপ, বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিসহ নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা ও প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট।
বিএনপির প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ ভবনের ভেতরেই ভোটগ্রহণের জন্য বুথ স্থাপন করা হবে। রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও স্পিকারও ভোট দেবেন। ভোটগ্রহণের সময় গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকবে এবং ভোট শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুতের প্রক্রিয়াও গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোট ৩৪৯টি। নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হলে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ শুরু করা যাবে। তবে কোনো ভোট বাকি থাকলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ কমিশনের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাঁদের সাচিবিক সহায়তা দেবেন।
বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলে দলের সব সংসদ সদস্য একসঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যরা ব্যালটে প্রার্থীর নাম লেখার পাশাপাশি নিজের নাম ও আসন নম্বরও লিখবেন। ফলে কে কাকে ভোট দিয়েছেন, তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
তাঁর ভাষ্য, জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার সময় গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। গোপন ব্যালটে ভোট হলে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে এ বিষয়ে বর্তমানে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের মাধ্যমেই ব্যালটের ব্যবস্থা করা যেত বলে জানান তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। গণভোটের রায় সংস্কারের পক্ষে যাওয়ার পর সংসদে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ ছিল।
তবে তা না হওয়ায় বর্তমান ব্যবস্থাতেই নির্বাচন হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন না করে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন চিফ হুইপ।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নতুন করে সংবিধান প্রণয়ন নয়, বিদ্যমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে নতুন বিল আনার কথাও জানান তিনি।
You cannot copy content of this page