জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা, দর্শন ও মানবতাবাদী আদর্শ ধারণ করে ন্যায়, নীতি, মূল্যবোধ ও সততার ভিত্তিতে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন কবি, সাহিত্যিক, নজরুল গবেষক, রাষ্ট্রচিন্তক ও সংস্কৃতিজনেরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলা একাডেমির কবি আল মাহমুদ কর্নারে ‘বিশ্বমানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা ও দর্শনের বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক মুক্তালোচনায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে ‘বিদ্রোহী দ্য নজরুল সেন্টার’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। হিডস লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশন ও জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদ এতে সহযোগিতা করে।

নজরুল গবেষক, রাষ্ট্রচিন্তক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন হিডস লিগ্যাল এইড ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও কাজী নজরুল সুফি সোসাইটির সভাপতি এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। প্রধান বক্তা ছিলেন জাসাসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের আবৃত্তি সম্পাদক ও বাচিক শিল্পী রোকসানা ইমাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাসনিম রানা, বিপিপিপির সভাপতি আলহাজ্ব এম এ ইউসুফ, সাবেক কর কমিশনার মির্জা শরিফুল আলম এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের অভিনেতা, লেখক ও শিক্ষাবিদ অ্যাডভোকেট লুৎফুল আহসান বাবু।
আলোচনায় আরও অংশ নেন নজরুল গবেষক মাহবুবুল হক, সকালের আলো পত্রিকার সম্পাদক এস এম আজাদ, লেখক ও গবেষক এমদাদুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান এবং ছড়াকার ও নজরুল গবেষক আতিক হেলাল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে বাচিক শিল্পী রোকসানা ইমাম কাজী নজরুল ইসলামের ‘কারাবন্দীর জবানবন্দি’ কবিতা আবৃত্তি করেন। এরপর কবিতা পাঠ করেন ছড়াকার শাহজাহান মোহাম্মদ, কবি হাসান মাহমুদ, বাচিক শিল্পী ইকবাল খান মাহি, কবি শায়লা খান, জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাচিক শিল্পী সুলতানা রাজিয়া এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কবি নাসরিন ইসলাম শেলী।
পুঁথি পাঠ করেন জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি হসিনা মমতাজ হাসি। অনুষ্ঠানে নজরুলসংগীত পরিবেশন করেন সরোয়ার মাহিন।
আলোচনায় বক্তারা নজরুলের জীবনসংগ্রাম, কবিতা, গান, হামদ-নাতসহ তাঁর সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য শুধু বিদ্রোহের বার্তা বহন করে না; তাঁর সৃষ্টিতে সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, ন্যায় ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান আজও সমাজের জন্য প্রাসঙ্গিক।
বক্তারা বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নজরুলের চেতনা ও দর্শন তুলে ধরার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজজীবনে তাঁর মানবতাবাদী আদর্শের চর্চা বাড়াতে হবে। ন্যায়-নীতি, সততা ও মূল্যবোধকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়েই নজরুলের স্বপ্নের মানবিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।
তাঁরা আরও বলেন, নজরুলের সাম্য ও মানবতার দর্শনকে ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা গেলে অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সিসিডিবির সাবেক এইচআর হেড সিলভিয়া রায়, এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক শিক্ষিকা তিনা অধিকারীসহ সাহিত্যিক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সাহিত্যপ্রেমী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
You cannot copy content of this page