স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চিকিৎসা পদ্ধতিকে নতুন শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট নিরসনের পাশাপাশি রোগীদের সেবা সহজ করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেবে না। অবহেলিত স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ চলছে।
তিনি জানান, আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৯ তলা বিশিষ্ট আধুনিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ১৫১ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চালু হলে সেখানে প্রসূতি নারীদের জন্য ২৫ শয্যার বিশেষ ওয়ার্ড এবং শিশুদের জন্য ২০ শয্যার পৃথক ওয়ার্ড রাখা হবে।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ের এসব হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়া আরও সহজ হবে।
স্বাস্থ্য খাতে আগের সরকারের সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের জন্য কেনা ওষুধ, অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন, অ্যান্টিভেনমসহ বিভিন্ন জরুরি ইনজেকশন হাসপাতালের বাইরে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের নিয়মিত হাসপাতালে উপস্থিত না থাকা এবং রোগীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো ছাড় দেবো না।”
পরিদর্শনের সময় মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বহির্বিভাগ, টিকাদান কার্যক্রম, রান্নাঘর, খাবারের মান, শৌচাগার, স্টোররুম ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শন করেন তিনি।
এ সময় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়েও খোঁজ নেন। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সেবার মান, খাবার এবং বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে জানতে চান।
পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
You cannot copy content of this page