নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুর্যোগস্থলের উজানে একটি বাঁধহ্রদের পানি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উপচে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন। এরই মধ্যে তিব্বতের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিব্বতে ভূমিধসের পর এখন পর্যন্ত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, নেপালের অংশে প্রায় ১০০ চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
সীমান্তবর্তী গিরং এলাকায় লেন্দে নদীতে কাদা ও পাথরের বিশাল স্তূপ ধসে পড়ার পর পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়। পরে ভোতে কোসি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে সেই স্রোত নেমে নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও জনপদে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করে। এতে নেপালে অন্তত ১৭৭ জন নিহত এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগস্থলের উজানে থাকা একটি বাঁধহ্রদ উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নতুন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হ্রদটি চোচেন খোলা ও পুরেপো সাংপো নদীর সংযোগস্থলে, দুর্যোগস্থলের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
হ্রদটির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন জোরদার করেছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। উদ্ধার তৎপরতায় সহায়তা এবং নতুন বিপর্যয় ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হ্রদটিতে পানির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছেছে এবং এরই মধ্যে পানি উপচে পড়ছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি জমতে পারে। ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার আশপাশের তিব্বতি গ্রামগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুজন গ্রামবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বেইজিং ও চেংদু থেকে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে চীন। স্থানীয় পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে।
গিরং শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়েছে। তবে সীমান্তবন্দর-সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে সিসিটিভি।
বিশেষজ্ঞরা নেপাল ও তিব্বতের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, হিমালয় অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা জনবসতি, অবকাঠামো ও পানির সরবরাহের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
২০২৫ সালের আগস্টেও তিব্বতে একই ধরনের আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে একটি হিমবাহ-হ্রদের পানি উপচে পড়ায় ওই ঘটনায় নয়জন নিহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যার মধ্যে নেপাল ও চীনকে সংযোগকারী একটি সেতুও ছিল।
You cannot copy content of this page