দীর্ঘ পাঁচ বছর পর পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। নকল ও অনিয়ম রোধে এবার প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় দুর্ঘটনা বা অনিবার্য কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হলে নির্দিষ্ট শর্তে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।
এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে অংশ নেবেন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজারেরও বেশি।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বডি ক্যামেরাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, কেন্দ্রগুলোর সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে প্রথমবারের মতো বডি ক্যামেরার নজরদারিতে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় কিছু পরীক্ষার্থীর মধ্যে মানসিক অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, আগে কখনো এমন পরিবেশে পরীক্ষা দেননি। তবে তারা আশা করছেন, প্রশ্নপত্র হবে মানসম্মত এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠিন বা সহজ হবে না।
অভিন্ন প্রশ্নপত্রের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও শিক্ষাবিদরা প্রশ্ন প্রণয়নের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র একটি ভালো উদ্যোগ। তবে শহরের উন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামীণ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রশ্ন এমনভাবে করতে হবে, যাতে প্রান্তিক অঞ্চলের কোনো শিক্ষার্থী বঞ্চিত না হয়।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, দেশের কোনো অঞ্চলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে শুধু ওই এলাকার নয়, সারা দেশের ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হবে। পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে একই দিনে সারা দেশে সেই পরীক্ষা নেওয়া হবে, যাতে সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমতা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও জানান, কোনো পরীক্ষার্থী যানজট, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো যৌক্তিক কারণে নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে স্থানীয় প্রশাসনের বিবেচনায় তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে।
You cannot copy content of this page