পারস্য উপসাগরের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, ওই হামলায় ইরানের সেনাসদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও হতাহত হয়েছেন।
একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। খবর আলজাজিরার।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে জানা গেছে, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেন দরজি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে একটি চিঠি পাঠান।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, রোববার সন্ধ্যায় পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী আকস্মিক হামলা চালায়। এতে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা গুরুতরভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও সরকারি স্থাপনাসহ বিভিন্ন সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গোলামহোসেন দরজি চিঠিতে আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সামরিক নীতি যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং হামলার নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের দায়ী করেন তিনি।
ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইরান সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে আসছে। তবে নিজেদের ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো হামলা হলে তার জবাব দিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
চিঠিতে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ওই হামলার প্রতিক্রিয়া এবং আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
জাতিসংঘের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গোলামহোসেন দরজি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর পর্যালোচনার সুবিধার্থে চিঠিটিকে জাতিসংঘের একটি অফিসিয়াল দলিল হিসেবে প্রচারের অনুরোধ জানিয়েছে তেহরান।
You cannot copy content of this page