নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না—এ প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। তবে দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে সংবিধানে সরাসরি কোনো বিধান নেই।
এর আগে ২০১৯ সালে বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ার পর তাদের বহিষ্কারের আলোচনা ওঠে। সে সময় তৎকালীন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, দল বহিষ্কার করলেও সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
সম্প্রতি এক তরুণীর সঙ্গে ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাংগঠনিক তদন্ত করে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলেও সিদ্ধান্ত নেয় দলটি।
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধানের ৭০ কিংবা ৬৬ অনুচ্ছেদে বহিষ্কারের ফলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে কি না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। তবে জনগণ দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতেই ভোট দেন। ফলে দল যদি কোনো সদস্যকে অসদাচরণের কারণে বহিষ্কার করে, তাহলে জনগণের দেওয়া সেই ম্যান্ডেট কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়ে।
তার ভাষ্য, বহিষ্কার ও পদত্যাগ এক বিষয় নয়। তবে অতীতে একটি মামলায় আদালত স্পিকারকে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল। তার ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী, দল যদি কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসন শূন্য হওয়াই উচিত।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে ‘পদত্যাগ’-এর কথা বলা হয়েছে, ‘বহিষ্কার’-এর নয়। তবে তার মতে, গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদও থাকা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি দাবি করেন, রাজধানীর মগবাজারে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার অফিসে তাকে জিম্মি করে অর্থ আদায় করা হয় এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ ও প্রচার করা হয়েছে।
এর পরদিন আরও একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে, যেখানে একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলামকে এক তরুণীর সঙ্গে দেখা যায়। ভিডিওতে তার সংসদ সদস্য পরিচয়সংবলিত একটি পরিচয়পত্রও দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
You cannot copy content of this page