রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দার পা নড়বে না, যতক্ষণ না তাকে তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে—কোথায় তা ব্যয় করেছে; তার জ্ঞান সম্পর্কে—তা দিয়ে কী করেছে; তার সম্পদ সম্পর্কে—কোথা থেকে তা অর্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে; এবং তার শরীর সম্পর্কে—কী কাজে তা ক্ষয় করেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)
এই হাদিসে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দিক সম্পর্কে জবাবদিহির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাই দুনিয়ার জীবনে সময়, জ্ঞান, সম্পদ ও শরীরকে কীভাবে ব্যবহার করছি, সে বিষয়ে প্রত্যেক মুসলিমের সচেতন থাকা জরুরি।
মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। জীবন কোথায় এবং কী কাজে ব্যয় করা হয়েছে, কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। তাই অযথা সময় নষ্ট না করে ইবাদত, নেক আমল, জ্ঞানার্জন এবং মানুষের কল্যাণে জীবনকে কাজে লাগানো উচিত।
জীবন মূলত সময়েরই সমষ্টি। একবার যে সময় চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না। তাই অহেতুক বিনোদন, অনর্থক কথাবার্তা কিংবা উদ্দেশ্যহীন কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ কাজে ব্যবহার করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। মানুষ যে জ্ঞান অর্জন করেছে, তা কীভাবে কাজে লাগিয়েছে, সে বিষয়েও তাকে জবাবদিহি করতে হবে। তাই অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা এবং মানুষের উপকারে কল্যাণকর জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি।
মানুষ কত সম্পদ উপার্জন করেছে, শুধু সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং কোথা থেকে তা উপার্জন করেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। হারাম, প্রতারণা, সুদ, ঘুষ কিংবা অন্যায় পন্থায় অর্জিত সম্পদ মানুষের জন্য পরকালে জবাবদিহির কারণ হতে পারে। তাই সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিষয়টি কঠোরভাবে বিবেচনা করা উচিত।
হালালভাবে সম্পদ উপার্জন করলেও তা ইচ্ছামতো ব্যয় করার সুযোগ নেই। পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন পূরণ, জাকাত-সদকা, আত্মীয়স্বজনের হক আদায় এবং মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যয় করা উচিত। একই সঙ্গে অপচয়, অপব্যয় ও অহেতুক বিলাসিতা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
মানুষের শরীরও আল্লাহর দেওয়া একটি আমানত। তাই শরীরকে গুনাহের কাজে ব্যবহার করা যেমন অনুচিত, তেমনি প্রয়োজনীয় যত্ন না নেওয়াও ঠিক নয়। সুস্থ শরীর আল্লাহর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত—এটি সঠিকভাবে কাজে লাগানো প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।
যৌবন, শক্তি ও সুস্থতা চিরস্থায়ী নয়। তাই জীবনের এই সময়কে ইবাদত, পরিশ্রম, জ্ঞানার্জন, পরিবার ও সমাজের কল্যাণ এবং মানুষের উপকারে কাজে লাগানো উচিত। অসুস্থতা ও বার্ধক্য আসার আগেই সুস্থতা ও যৌবনের মূল্যায়ন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এই হাদিস মানুষের দুনিয়াবি জীবনকে দায়িত্বশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, অর্জিত জ্ঞান, উপার্জিত সম্পদ এবং শরীরের শক্তিকে কীভাবে কাজে লাগাচ্ছি—সেদিকে সচেতন হওয়া জরুরি।
You cannot copy content of this page