ইসলামের প্রাথমিক যুগে বর্তমানের মতো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মাদ্রাসা ব্যবস্থা ছিল না। সে সময় জ্ঞানার্জন ও শিক্ষা প্রদানের প্রধান কেন্দ্র ছিল মসজিদ। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত আদম (আ.) পৃথিবীতে আগমনের পর পবিত্র কাবাঘর (বাইতুল্লাহ) নির্মাণ করেন, যা মানবজাতির প্রথম ইবাদতকেন্দ্রের পাশাপাশি জ্ঞানচর্চারও প্রাচীন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়ত লাভের পর ইসলাম প্রচারের সূচনালগ্নে কাবাকে শিক্ষা প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন। তবে সে সময় এটি কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়নি।
পরবর্তীতে মক্কার সাফা পাহাড়ের পাদদেশে সাহাবি হজরত আরকাম ইবনে আবুল আরকামের (রা.) বাড়িতে ‘দারুল আরকাম’ নামে একটি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইসলামের ইতিহাসে এটিকেই প্রথম মাদ্রাসা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
দারুল আরকামেই মহানবী (সা.) সাহাবিদের কোরআন, ঈমান ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষা দিতেন। এখানে জামাতে নামাজ আদায় করা হতো এবং আল্লাহর নির্দেশ-নিষেধ সাহাবিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। পাশাপাশি তাদের আধ্যাত্মিক উন্নয়ন, চারিত্রিক গঠন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ইসলামের দাওয়াত প্রচারের কৌশলও শিক্ষা দেওয়া হতো।
নবুওয়তের তৃতীয় বছর থেকে ষষ্ঠ বছর পর্যন্ত প্রায় তিন বছর দারুল আরকাম ছিল মহানবী (সা.)-এর কার্যক্রমের কেন্দ্র এবং ইসলামের প্রাণকেন্দ্র। এই সময়ে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তারা ইসলামের প্রথম যুগের মুসলমান হিসেবে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, দারুল আরকামে সর্বশেষ ইসলাম গ্রহণকারী ছিলেন হজরত ওমর (রা.)। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানদের শক্তি ও সাহস বৃদ্ধি পায়। এরপর তারা গোপন দাওয়াতের পর্ব শেষ করে প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত প্রচার শুরু করেন।
তথ্যসূত্র: ইসলামের ইতিহাস (পৃষ্ঠা ৯৫), আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা (পৃষ্ঠা ৯৯) এবং মুসনাদে হাকিম (হাদিস: ৬১৩০)।
You cannot copy content of this page