শিক্ষা খাতের দুরবস্থা, আবাসন সংকট এবং জীবনযাত্রার আকাশছোঁয়া ব্যয়ের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজপথে নেমেছেন জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম। শনিবার রাতে হ্যালোইন উদযাপনের মধ্যেই ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড ও ইতালিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব আন্দোলনে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
ফ্রান্সে শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি এবং সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির প্রতিবাদে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে পরে শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরাও যোগ দেন। রাজধানী প্যারিসসহ লিওঁ ও তুলুজ শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২০ শতাংশ ঋণের চাপের মধ্যে থাকা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের জন্য এই আন্দোলন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
জার্মানিতে তরুণদের দাবি ও উদ্বেগের প্রতি রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘জেনজি রেগেল্ট!’ নামের একটি সংগঠনের ডাকে ১০ হাজারের বেশি তরুণ বিক্ষোভে অংশ নেন। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাতে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট, বার্লিন ও হামবুর্গের মতো বড় শহরে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে লুটপাট এবং পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ও পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পোল্যান্ডেও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। সাংবিধানিক ট্রাইব্যুনালের প্রধানকে বরখাস্ত করাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করলেও বিরোধীরা একে ‘অভ্যুত্থান’ আখ্যা দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে সেনেগাল সফর বাতিল করে দেশে ফিরে বরখাস্ত হওয়া আদালতপ্রধানের পক্ষে অবস্থান নেন প্রেসিডেন্ট কারোল নাওরোকি।
এদিকে, ইতালিতেও শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সামরিক খাতে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থী ও শ্রমিক রাজপথে নামেন। সেখানেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সব মিলিয়ে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তরুণদের অসন্তোষ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করেছে।
You cannot copy content of this page