ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর 'খ' ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখের বিরুদ্ধে সেবা গ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের (রাজস্ব শাখা) এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ও ৩(গ) ধারায় অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ায় বিধিমালার ১২(১) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোয়ালমারীর সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে বিধি অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা পাবেন। এ সংক্রান্ত আদেশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “ভিডিও ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পূর্বের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার থেকে তিনি অফিস করতে পারবেন না।”
এর আগে রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বসে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন এবং তা গুনছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা।
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “উনিও চল্লিশতম বিসিএস, আমিও চল্লিশতম বিসিএস। উনার কপাল ভালো, উনি ক্যাডার হয়েছেন, আর আমি নন-ক্যাডার হয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইমরান শেখ। তার দাবি, ভিডিওতে দেখা টাকাটি ঘুষ নয়, ধার দেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়ার সময় ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেক মানুষ আমার কাছ থেকে টাকা ধার নেয় এবং পরে ফেরত দেয়। এটি সেই ধরনের একটি লেনদেনের ভিডিও।” তবে তিনি যিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন, তার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
You cannot copy content of this page