রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন করে প্রাণহানি, দুই দেশে নিহত অন্তত ২২
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধে আবারও বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুই দেশের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ হামলায় রাশিয়ায় ১১ জন এবং ইউক্রেনে ১১ জনসহ মোট অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।
রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনের একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষ একটি রিসোর্ট এলাকায় পড়ে। এতে তিন শিশুসহ সাতজন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হন। এছাড়া রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় চারজন এবং বেলগোরোদ সীমান্ত এলাকায় আরও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের একটি পেট্রোল স্টেশনে রাশিয়ার হামলায় একজন উদ্ধারকর্মী, তার আট বছরের ছেলে এবং আরও একজনসহ তিনজন নিহত হন। এছাড়া জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে রাতভর হামলায় আরও আটজন নিহত হন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশই দাবি করেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের দুটি বসতি দখল করেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অন্যতম বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ-এর একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, যেমন সামরিক হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং ড্রোনে ব্যবহৃত ফাইবার-অপটিক কেবল বিক্রি করে।
এদিকে গত সপ্তাহে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন-সংক্রান্ত লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছেন।