মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর মধ্যে চলমান সংঘাত ৩০ দিনে গড়িয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। এতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ শীর্ষ নেতাদের নিহত হওয়ার দাবি ওঠে। এরপরই ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে।

বর্তমানে ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালাচ্ছে। নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সংঘাতটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে।
সৌদি ঘাঁটিতে হামলা
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি উন্নত ই–৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে অন্তত ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র গোপনে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তবে ইরান বলেছে, তারা যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্রস্তুত।
উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা মার্কিন সামরিক সংশ্লিষ্টতার সঙ্গে যুক্ত।
হুথিদের হুমকি
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দাব প্রণালি-তে জাহাজ চলাচলে হামলার হুমকি দিয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে বন্ধ হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
কূটনৈতিক তৎপরতা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে শান্তির উদ্যোগ নিয়েছেন। পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসর যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৈঠকের আয়োজন করেছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা চাপে
ইরানের ধারাবাহিক হামলায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। সীমিত ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের কারণে সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি
মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পরিসরে স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং USS Tripoli অঞ্চলটিতে অবস্থান নিয়েছে।
সব মিলিয়ে সংঘাতটি এখন পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে, যার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে।