সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর প্রথম মহাসচিব হিসেবে পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিতব্য জোটের সাধারণ সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য পাকিস্তানের একজন মহাসচিবের নেতৃত্বে সচিবালয় পরিচালিত হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নোমান মাহমুদের নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত জোটের প্রথম কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠকে সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নোমান মাহমুদ ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইসলামাবাদের ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৭ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা ২০২৩ সালে অবসর নেন।
এর আগে গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’-এ সই করেন। চুক্তিটির লক্ষ্য তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখা।
চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান হলো, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও চুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মক্কা চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। এর মাধ্যমে তিন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসছে।
চুক্তির আওতায় তিন দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও সমন্বিত কাঠামোয় আনার একটি উদ্যোগ হিসেবে চুক্তিটি কার্যকর করা হচ্ছে।
সৌদি আরবে সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং পাকিস্তানের নোমান মাহমুদকে প্রথম মহাসচিব নিয়োগের মধ্য দিয়ে তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেল।
You cannot copy content of this page