ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫৬ জন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, নিহত ও আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সম্ভাব্য বড় ধরনের রুশ হামলার সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। খবর আল-জাজিরা।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ছয়টি তলা আংশিকভাবে ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো বলেন, হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন ডজন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা জারির পর অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দূরপাল্লার উচ্চ-নির্ভুলতার আকাশ, স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, কিয়েভ ছাড়াও পোলতাভা ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের সামরিক বিমানঘাঁটিগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।
মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আয়ারল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে বড় ধরনের রুশ হামলার প্রস্তুতির তথ্য ছিল।
জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাশিয়া তা গ্রহণ করেনি। তার দাবি, রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ শুধু ইউক্রেনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ।
এদিকে হামলার সময় প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। পরে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
You cannot copy content of this page